বাড়ছে ইরানের আকরিক লোহার উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা

ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল আকরিক লোহা উত্তোলনে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ইরান।

দেশটির প্রধান খনি কোম্পানিগুলো থেকে ঘনীভূত আকরিক লোহা উত্তোলন চলতি ইরানি বছরের প্রথম নয় মাসে ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময় বড় দানার আকরিক লোহা উত্তোলন ও সরবরাহের সক্ষমতাও অনেক বেড়েছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

ইরানীয় মাইনস অ্যান্ড মাইনিং ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিনোভেশন অর্গানাইজেশনের (ইমিড্রো) তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ঘনীভূত আকরিক লোহার উত্তোলন ৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার টনে, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৩ কোটি ৬৯ লাখ টন। এছাড়া গোল গোহর মাইনিং অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও চাদরমালু মাইনিং অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ালের মতো শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান গত এক মাসেই ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টন ঘনীভূত আকরিক লোহা উত্তোলন করেছে। এটি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নয় মাসে বড় দানার আকরিক লোহা উত্তোলন বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। এ সময় উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার টনে, যা আগের বছর ছিল ১১ লাখ ১০ হাজার টন। উত্তোলনের পাশাপাশি পণ্যটির সরবরাহ সক্ষমতাও বেড়েছে। নয় মাসে বড় দানার আকরিক লোহার সরবরাহ ১৭ শতাংশ এবং ঘনীভূত আকরিক লোহার সরবরাহ ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যানুযায়ী, ৩৮০ কোটি টন আকরিক লোহার মজুদ নিয়ে ইরান বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি খনিজ সমৃদ্ধ দেশের তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে দেশটি বছরে প্রায় ১০ কোটি টন আকরিক লোহা উৎপাদন করছে। ইরানের মূল লক্ষ্য হলো কাঁচামাল রফতানির পরিবর্তে উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করা। এ লক্ষ্যে কেরমান ও ইয়াজদ প্রদেশে নতুন কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ইস্পাত শিল্পে ইরানের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে এটি জ্বালানি তেল রফতানির ওপর দেশটির নির্ভরতা কমিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘনীভূত আকরিক লোহা একটি উচ্চমানের পণ্য। সাধারণ আকরিক লোহায় ধাতুর পরিমাণ মাত্র ২০-৩০ শতাংশ থাকে। তবে প্রক্রিয়াজাত করার পর ঘনীভূত আকরিক লোহায় ধাতুর পরিমাণ বেড়ে ৬০ শতাংশের ওপরে দাঁড়ায়। এতে পরিবহন খরচ কমে এবং ইস্পাত কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মূলত এ ধরনের উচ্চমানের পণ্যের উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় ইরানের রফতানি সক্ষমতা আগের চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে।

আরও